বাংলাদেশে কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই কৃষকদের মধ্যে এখন অর্গানিক সার বা জৈব সার ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে। অর্গানিক সার তৈরি করা খুব সহজ, আর এটি কম খরচে বেশি ফলন পেতে সহায়তা করে।
অর্গানিক সার কী?
অর্গানিক সার হলো প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি সার, যেখানে কোন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না। সাধারণত গোবর, কম্পোস্ট, সবজি ও ফলের আবর্জনা, শুকনো পাতা, কৃষি বর্জ্য, কেঁচো, গৃহস্থালির বর্জ্য ইত্যাদি ব্যবহার করে অর্গানিক সার তৈরি করা হয়।
অর্গানিক সার তৈরির উপায়
১. কম্পোস্ট সার তৈরির পদ্ধতি
- গর্ত বা পিট খুঁড়ে সেখানে শুকনো পাতা, সবজি-ফলের খোসা, ধানের খড়, গৃহস্থালির বর্জ্য রাখুন।
- প্রতিটি স্তরের উপর কিছুটা গোবর ও মাটি দিন।
- পানি ছিটিয়ে দিন যাতে আর্দ্রতা বজায় থাকে।
- প্রায় ৩-৪ মাস পর পচে গিয়ে উৎকৃষ্ট মানের কম্পোস্ট সার তৈরি হবে।
২. গোবর সার তৈরির পদ্ধতি
- গরু বা ছাগলের গোবর সংগ্রহ করুন।
- খোলা জায়গায় স্তূপ আকারে রেখে তার উপর মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
- ১-২ মাসের মধ্যে তা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
৩. কেঁচো সার (Vermicompost) তৈরির পদ্ধতি
- প্লাস্টিক বা সিমেন্টের টবে শুকনো পাতা, খড়, গোবর ও কেঁচো দিন।
- নিয়মিত পানি ছিটিয়ে আর্দ্র রাখুন।
- ৪০-৬০ দিনের মধ্যে কেঁচো সার তৈরি হবে, যা সবচেয়ে কার্যকর জৈব সার হিসেবে পরিচিত।
৪. তরল অর্গানিক সার (Liquid Fertilizer) তৈরির উপায়
- এক ড্রামে পানি নিন।
- তাতে গোবর, গাছের পাতা, সবজির খোসা ও জৈব বর্জ্য দিন।
- ১৫-২০ দিন ফারমেন্ট হওয়ার পর এটি গাছে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
অর্গানিক সারের উপকারিতা
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে
- গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
- পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর
- খরচ কম এবং কৃষক লাভবান হয়
উপসংহার
অর্গানিক সার তৈরি করা খুবই সহজ এবং এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কৃষকরা যদি নিয়মিতভাবে অর্গানিক সার ব্যবহার করেন, তাহলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পাবেন।